টুডে সিলেট ডেস্ক :: সিলেটের আদালতে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন হাজী সুয়াই মিয়া (৭৬) নামের এক ব্যক্তি। মামলায় তার ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৬) এর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া চেষ্টা, মারধর, বাদীর সম্পত্তির কাগজপত্র,পাসপোর্ট ও পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য প্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্ভর) সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী হাজী সুয়াই মিয়া ও অভিযুক্ত জসিম উদ্দন সিলেটর গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউপির ফুলসাইন্দ গ্রামের বাসিন্দা।
পিতার উপর ছেলের এ হামলার ঘটনায় লক্ষণাবন্দ সহ গোটা উপজেলায় তোলপাড়া চলছে। ছেলে জসিম উদ্দিনের হামলার পর থেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে আত্মীয় স্বজনদের বাসা-বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন মামলার বাদী সুয়াই মিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী পারিবারিক জীবনে ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে জনক। বড় দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন এবং সকল মেয়ে স্বামীর সংসারে রয়েছেন। স্ত্রীও বেঁচে নেই। নিজ বাড়ীতে একাই বসবাস করেন বাদী। চলতি মাসের ১৪ই ডিসেম্ভর রাত ৮টায় ছোট ছেলে জসিম উদ্দিন সকল ভাই বোনের সম্পত্তি তার একার নামে করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এসময় বাবা জানান,তুমি চাইলে তোমার একার অংশ নিতে পারবা। সকল ভাই-বোনের অংশ তোমার একার নামে লিখে দিতে পারবো না। এ কথা বলার পরপরই ছোট ছেলে জসিম তার বাবাকে মারধর করিয়া একটি রুমে তালবদ্ধ করিয়া রাখে এবং বাদীর সম্পত্তির সকল কাগজপত্র,পাসপোর্ট ও পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পরের দিন গোলাপগঞ্জ থানায় জিডি করতে গেলে ওসি জানান, আপনার জিডি বা অভিযোগ কোনটাই নেওয়া যাবে না। ১৭ই সিসেম্ভর সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কাছে থানা পুলিশ জিডি না নেওয়া ও ছেলের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী বাদী।
ওইদিন এলাকার কিছু লোক নিয়ে ছেলের কাছ থেকে সম্পত্তির দলিলপত্র ও পাসপোর্ট আনার জন্য গেলে ছেলে আবার মারধর করে। পরে বাদী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আদালতে মামলা করেন।
উল্লেখ্য- ২০২০ সালেও জসিম জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া জন্য তার পিতাকে মারধর করে গুরুত্বর আহত করে। এ ঘটনায় তার বাবা সুয়াই মিয়া নিরুপায় হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় ছেলে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করিলে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিমাংশা হয়।
এ বিষয়ে মামলার বাদী সুয়াই মিয়ার সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, আসামী হওয়া ওই ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার একবছর পর থেকে বিভিন্ন ভাবে আমাকে নির্যাতন করছে। তার নির্যাতন সইতে না পেরে মাও মারা গেছেন।
আদালতে দায়ের হওয়া মামলার আইনজীবী এ্যাডভোকেট লিটন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যার সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান,সুয়াই মিয়া যে অভিযোগ করেছেন সেটি সত্য নয়। আদালতে দায়ের করা মামলা থানায় আসলে আমরা যতাযত ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।
Editor-in-Chief and Publisher: Mohammed Imran Ali, Executive Editor: Ahmed Ferdous Shakar, News Editor: Ahia Ahmed. E-mail: news.todaysylhet24@gimal.com
www.todaysylhet.com