৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

add

দস্তগীরসহ সব আসামির ফাঁসি চায় সাংবাদিক তুরাবের পরিবার

todaysylhet.com
প্রকাশিত ২০ ডিসেম্বর, শুক্রবার, ২০২৪ ২১:৪৯:২০
দস্তগীরসহ সব আসামির ফাঁসি চায় সাংবাদিক তুরাবের পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গত ১৯ জুলাই সিলেটের বন্দরবাজারে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। এসময় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। তুরাব হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অভিযুক্ত সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) গ্রেফতারকৃত সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাদেক কাওসার দস্তগীরসহ সকল আসামীর ফাঁ সি চান নিহত তুরাবের পরিবার।

 

এটিএম তুরাব সিলেটের আঞ্চলিক সংবাদপত্র দৈনিক জালালাবাদ ও জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তে কর্মরত ছিলেন।

 

শোকাহত স্বজনদের দাবি, যেভাবে নৃশংসভাবে তুরাবকে খুন করা হয়েছে তা যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়। তাই আসামীদের মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র কাম্য। এতে করে আর কেউ এমন নারকীয় ঘটনা ঘটাবার দুঃসাহস করবে না।

 

এদিকে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে এ হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি শেরপুর জেলার একটি এলাকা থেকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সাদেক কাওসার দস্তগীরকে গ্রেফতার করে পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

দস্তগীরকে গ্রেফতারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান জাবুর বলেন, গোলাম দস্তগীর হলেন এই মামলায় ৩নং আসামী। তাকে গ্রেফতারে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে খুশি। তবে আমরা পুরোপুরি খুশি হবো যখন অন্যান্য আসামিরা গ্রেফতার হবেন ও তাদেরকে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে।

 

দস্তগীরকে বিকেলে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেয়া হয়। এসময় ছিল সেনা ও পুলিশের কড়া পাহারা। পুলিশ দস্তগীরকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালতের বিচারক মো. আব্দুল মোমেন ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি ও এপিপি আলী হায়দার ফারুক।

 

৫ আগস্ট ছাত্র- জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আব্দুল মোমেনের আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই আবুল হাসান মো. আজরফ জাবুর। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ক্রাইম ও উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউছার, উপ-কমিশনার (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি আজবাহার আলী শেখসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মামলায় আরো ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

 

মামলায় আরো যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- এসএমপির কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামী, কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি মঈন উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুর রহমান, এসআই কাজী রিপন আহমদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আফতার হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পীযূষ কান্তি দে, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর, শিবলু আহমদ, সেলিম মিয়া, আজহার, ফিরোজ ও উজ্জ্বল।

 

অপরদিকে ১৭ নভেম্বর রাতে এ মামলার আরেক আসামি পুলিশ কনস্টেবল উজ্জ্বলকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। এ নিয়ে তুরাব হত্যা মামলায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। দুজনই পুলিশ সদস্য।