
টুডে সিলেট ডেস্ক :: ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত সভাপতি সম্পাদক মঈন উদ্দিন ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন-এর সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ ফেব্রæয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের বাদেদেউলী গ্রামে অবস্থিত জমিরুন নেসা একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বিয়ান এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
ঘিলাছড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের গ্রæপ চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম শাহিনের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সেনা সদস্য জসিম উদ্দিন সেলিম ও প্রবাসী দুলাল’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাবু রবিন্দ্র কুমার নাথ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাবু রবিন্দ্র কুমার নাথ ঘিলাছড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাÐে সম্পৃক্ততা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সন্তানেরা বেশিরভাগই এই স্কুলে পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আজ তারা সমাজের বিভিন্নস্থানে উচ্চপদে কর্মরত আছেন। এই স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী শুধু সিলেটেই নয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাইরেও বড় বড় পদে আসীন রয়েছেন। তারা নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন করে আসছেন। তারা শুধু আমাদের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার গর্ব নয়, তারা গোটা সিলেট এমনকি দেশের গর্ব। এটি ফেঞ্চুগঞ্জবাসীর জন্য আসলে অত্যান্ত খুশির সংবাদ।
সংবর্ধিত অতিথি সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি ও দৈনিক আধুনিক কাগজের সম্পাদক মঈন উদ্দিন বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ আসি সৌন্দর্যের খোঁজে। সিলেটের সুন্দর জায়গাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা। আমি ছাত্র জীবন থেকে সুযোগ পেলে প্রায়ই এই এলাকায় আসি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। প্রতিদিন অনেক ব্যস্ততার মধ্যে সাংবাদিকদের থাকতে হয়। সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এই পেশায় অনেক কাজ, অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয় আমাদের। গত ৫ আগস্ট যে আন্দোলন হয়েছে এই আন্দোলনে আমাদের একজন সাংবাদিক এটিএম তুরাব পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি অনেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এতোকিছ্ ুমোকাবিলা করার পরেও আমরা চাই যে সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে। যেকোনো পরিস্তিতিতে আমরা আমাদের দেশকে এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একসাথে কাজ করতে চাই।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, আমরা সম্মানের জন্যই সাংবাদিকতা করি। সম্মানিত পেশা হিসেবে আপনারা পড়ালেখার পর এই পেশায় আসতে পারেন। আমি প্রত্যাশা করি, আপনারা এখানে অনেকে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার হবেন, হয়তো দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। আমরা যাই করিনা কেনো, দেশকে ভালবাসবো। রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ভাল কিছু করবো।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক শ্যামল সিলেট’র যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এবং বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান। শৈশব-কৈশোর কেটেছে এখানের বিদ্যাপীঠে। আপনাদের ¯েœহধন্যে বেড়ে ওঠেছি। নিজের অবস্থান থেকে লেখনীর মাধ্যমে আপনাদের জন্য যদি কিছু করতে পারি, এটা হবে আমার জন্য পরম পাওয়া। বিশেষ করে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্যরা সমাজের দর্পন হয়ে অনুসন্ধিৎসু চোখে সমাজের অসঙ্গতি, অনিয়ম, দুর্নীতি তুলে ধরতে আপোষহীন হয়ে কাজ করেন। আমরা যাতে দেশ ও সমাজের জন্য ভাল কিছু করতে পারি, এ জন্য আপনাদের দোয়া চাই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জমিরুন নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিহার রঞ্জন উকিল, ঘিলাছড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মন্নান, বর্তমান প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম মিছবাউর রহমান, শ্রীপুর জালালীয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী প্রিন্সিপাল মাওলানা জুবায়ের হোসেন, জমিরুন নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক আজিজুর রহমান মুক্তা, সমাজসেবী মো. সামছ উদ্দিন ও ডা. শেখ আক্তার হোসেন, হলি ফ্লাওয়ার স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. শামিম আহমদ।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আধুনিক কাগজের প্রকাশক ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি সাঈদ চৌধুরী টিপু, ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক মাসুদ আহমদ রণি ও সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার জয়ন্ত কুমার দাস।
১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক সেনা সদস্য মিনহাজ উদ্দিন ও মনজুর হোসেন, সামাদ হোসেন রুমেল, রুবেল আহমদ, দিলীপ কুমার দাস, ফজলুল করীম, আবুল ফাত্তাহ, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিমন হাসান রিমু।
এসময় সিলেটের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দৈনিক শ্যামল সিলেট’র স্টাফ রিপোর্টার রায়হান উদ্দিন নয়ন, বাংলাভিশন টেলিভিশনের সিলেট অফিসের ভিডিও জার্নালিস্ট মো. আজমল আলী, মাই টিভি’র সিলেট প্রতিনিধি মৃণাল কান্তি দাশ, দৈনিক শ্যামল সিলেট’র স্টাফ রিপোর্টার মো. মিলন তালুকদার, এশিয়ান টিভি সিলেট অফিসের ভিডিও জার্নালিস্ট মো. রেজা রুবেল, দৈনিক শ্যামল সিলেট’র স্টাফ ফটো সাংবাদিক এহিয়া আহমদ, বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমের সিলেট প্রতিনিধি মোশাহিদ আলী, আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রোম্মান আহমেদ চৌধুরী, দৈনিক শ্যামল সিলেট’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আলী হায়দার মৃদুল, আধুনিক কাগজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার সবুজ আহমদ, ফটো সাংবাদিক মেহেদী হাসান অপূর্ব, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সিলেট অফিসের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মহসিন রনি, রানার টিভির সিলেট অফিসের ক্যামেরাপার্সন আফজল আহমদ, সিলেটের তরুণ জনপ্রিয় বøগার নুরুল আমিন জনি, নতুন সিলেট-এর স্টাফ রিপোর্টার শফি আহমদ, টাইম অব সিলেটের পরিচালক জাহিদুর রহমান রিপন প্রমুখ।
এসময় এলাকাবাসীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজেদ আলী, সাবেক বাংলাদেশ রাইফেলসের সুবেদার (অব) আবুল হোসেন, মকবুল হোসেন, মুরাদ আলী, আব্দুল মলিক, আসলাম মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য রেসল মিয়া, ছয়ফুল আহমদ, সজল দেবনাথ, আব্দুস সালাম, শামীম আহমদ, মানিক মিয়া, মতিউর রহমান মনি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথিদের জনতা ব্যাংক, ১৯৯৭ ও ২০০৬ ব্যাচ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমাÐ ও ফরিদ এন্টাপ্রাইজের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- জমিরুন নেছা একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান রিপন, সাবরিন জান্নাত উর্মি, সানজিদা ইসলাম লিমা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।