৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

add

সিলেটের ফুটওভারব্রিজগুলোতে চলাচলে নেই আগ্রহ

todaysylhet.com
প্রকাশিত ১২ ফেব্রুয়ারি, বুধবার, ২০২৫ ১৯:৪৮:৩৩
সিলেটের ফুটওভারব্রিজগুলোতে চলাচলে নেই আগ্রহ

টুডে সিলেট ডেস্ক
সিলেট নগরীর জনসাধারণকে নিরাপদে রাস্তা পারাপারের সুবিধার্থে নগরীতে স্থাপন করা হয়েছিলো চারটি ফুটওভার ব্রিজ। ৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব ব্রিজ পথচারীরা ব্যাবহার না করায় কোটি কোটি টাকার চার ফুটওভার ব্রিজ এখন এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শুধু তাই নয় এসব ব্রিজ এখন বখাটে ছিনতাইকারী ও মালামাল রাখার জায়গায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত প্রকল্প গ্রহণে দুরদর্শিতার অভাব আর সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে যাতায়াতের প্রয়োজন অনুভব করছেন না জনসাধারণ। শুধু শুধু টাকার অপচয় ছাড়া আর কোন সুফল জনসাধারণ ভোগ করতে পারেন নি। ফুট ওভারব্রিজ স্থাপনের কিছুদিন পর থেকেই এসবের উপকারিতা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।

সিসিক প্রকৌশল বিভাগ জানায়, আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের আগ্রহে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্টে ওভারব্রিজটি নির্মান করা হয়। এরপর প্রায় ৯ বছর অতিবাহিত হলেও ব্রিজ দিয়ে চলাচলে জনসাধারণের কোন আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি।

২০২১ সালে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে টিলাগড়ে নির্মাণ করা হয় আরেকটি ফুট ওভারব্রিজ। ২০২২ সালে কদমতলীর হুমায়ূন রশীদ চত্বরের পাশে নির্মিত হয় আরেকটি ব্রিজ। এটিও জনসাধারণের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারেনি। এ অবস্থায় ২০২৩ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালিন ভিসির আবেদনের প্রেক্ষিতে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদ রাস্তা পারাপারের কথা চিন্তা করে শাবি গেইটে নির্মাণ করা হয় ফুট ওভারব্রিজ।

সিসিক’র প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান জানান, কোর্ট পয়েন্টে ওভার ব্রিজ ছাড়াও আরও তিনটি ওভারব্রিজ নির্মিত হয়। এই তিনটি ব্রিজে ব্যয় হয় ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এগুলোর ব্যয়ের আলাদা আলাদা কোন হিসেব তিনি দিতে পারেননি। তাছাড়া ৪টি ওভারব্রিজ পরিচর্যা ও সংস্কারের কোন ব্যয় নেই। বন্দর ওভার ব্রিজের নিচে কথা হয় সিসিকের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অনিল কুমার মজুমদারের সাথে। একজন পথচারী হিসাবে তিনি বলেন, সচেতন নাগরিক সমাজ গঠন না করে এসব প্রকল্প থেকে আশানুরূপ সাফল্য অর্জন না হওয়াই স্বাভাবিক। তাছাড়া এমন হতে পারে ওভার ব্রিজগুলোতে প্রকৌশলগত গঠন পদ্ধতি বিশেষ করে বৃদ্ধ, মহিলা, কিংবা শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের চলাচলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা না রাখায় ব্রিজ দিয়ে চলাচলে আগ্রহ নেই। তবে যেটুকু হয়েছে এর সর্বোচ্চ ব্যাবহারের জন্য প্রয়োজন, আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়া।

এখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যেতে পারে। অনেকাংশে ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপারের জন্য বেশি সময় হয় বলে অনেক নাগরিক তা ব্যবহার করেন না। বন্দর ফুট ওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে জনসাধারণ পারাপারে বিধি নিষেধের ব্যবস্থা করে সচেতনতা গড়ে তুলা যেতে পারে।

অনন্য ওভার ব্রিজগুলোর সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি বলেন সবগুলোই প্রয়োজন বোধ করে তৈরি করা হলেও এক্ষেত্রে উপযোগীতার ব্যাপারে আরো যাচাই করে এই ব্রিজগুলো তৈরি করলে হয়তো ব্যাপারটা অন্যরকম হতো। সরেজমিনে নগরীর চারটি অভারব্রিজ ঘুরে দেখা যায়, রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে পথচারীরা সেগুলো ব্যবহার করছেন না। রাস্তা পার হওয়া পথচারীদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অনেকেই এড়িয়ে গেছেন। কেউ বলেন এগুলোর দরকার নেই, কেউ বলেছেন এগুলো হর্তাকর্তাদের পকেট ভারি করার প্রকল্প।

কোর্ট পয়েন্টের ফুটওভারের একপাশে দেখা গেলো ভাসমান ব্যাবসায়ীদের দোকানের পন্য এনে রেখে ব্যাবসা করতে। অন্য পাশে ছিন্নমূল কিছু কিশোরের অবস্থান করতে দেখা যায়। এদের অনেকেই মাদকসেবী। ওভারব্রিজের পূর্ব সিড়ি মুখ সংলগ্ন রাফিক রফিক বস্ত্র বিতানে বসে থাকা আমির উদ্দিন (৫০) জানান, এই ওভার ব্রিজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেই তৎকালীন সময়ে স্থাপন করা হয়েছিলো। কিন্তু লোকজন ব্যাবহার করছে না। এই বিষয়ে উদ্যোগী হওয়া দরকার।

তিনি আরো বলেন, ব্রিজে টোকাইনেশাখোরদের আড্ডাখানা তাই অনেকেই দুয়েক সিঁড়ি উঠে এদের দেখার পর ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ব্রিজ এড়িয়ে নিচ দিয়ে চলাচল করেন। কথা হয় পথচারী অলিউর রহমানের (৫২) সাথে তিনি বলেন, ব্রিজ ব্যবহার করা দরকার সেজন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।

টিলাগড় ফুটওভার ব্রিজে তেমন মানুষজন পাওয়া যায়নি। একপাশের সিঁড়িতে প্রেমিক যুগলকে দাঁড়িয়ে গল্প করতেও দেখা যায়। অন্যপাশে উঠতি বয়সের দুয়েকজন তরুন খোশগল্প করেতে করতে সিগারেট টানতে দেখা গেছে! মাহমুদুল হাসান ১৯ নামের এক

ছাত্রের সাথে কথা হয়! তিনি জানায়, ‘আমি সবসময়ই ফুটওভার ব্রিজ দিয়েই রাস্তা পারাপার হই। এটা আমার কাছে নিরাপদ মনে হয়। কিন্তু লোকজন কেন ব্যাবহার করে না বুঝরাম না। আমার মনে হয় মানুষ অযতাই না বুঝে তাড়া করে কাজকামের ব্যাস্ততার অযুহাতে নিচ দিয়ে যায়। এতে হঠাৎ এক্সিডেন্টের সম্ভাবনা থাকে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজে গিয়ে দেখা যায় অনেকগুলো কুকুর শুয়ে শুয়ে রোদ পোহাচ্ছ! নাগরিক মহলের দাবি এই ফুট ওভারব্রিজ গুলোকে কাজে লাগাতে আরো চিন্তা করা প্রয়োজন।