
নিজস্ব প্রতিবেদক :: দীর্ঘদিন থেকে সিলেটের বাজারে রয়েছে বোতলজাত ভোজ্যতেলের ঘাটতি। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে মিলছে না খোলা তেলও। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানির প্রতিনিধি কিংবা সরবরাহকারীরা পর্যাপ্ত তেল দিতে না পারার ফলে বাজারে ভোক্তার চাহিদা মেটাতে পারছেন না বিক্রেতারা।
সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় মুদি দোকান ঘুরে দেখা যায়, সয়াবিন তেলের সঙ্কটে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। বেশিরভাগ দোকানে বোতলজাত ভোজ্যতেল নেই। তবে সুপারশপগুলোতে কম-বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে। ভোজ্যতেলের সঙ্কট এখনও কাটেনি। প্রায় মাসখানেক ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি চলছে। বোতলে সয়াবিন তেলের সঙ্কটে খোলা সয়াবিন তেলের দর বেড়ে গেছে। বাজারে ৮ থেকে ১০টা মুদি দোকান খুঁজেও তেল পাওয়া যায় না। পেলেও বিক্রেতারা দাম বেশি রাখেন। বাজারে বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল কিনতে গুণতে হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। যদিও তেলের বোতলের গায়ের দাম ১৭৫ টাকা।
মহানগরের শিবগঞ্জ এলাকায় বাজার করতে আসা সাদেক বলেন, দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পুরো বাজার ঘুরেছি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পেয়েছি। তাও গায়ের মূল্য থেকে পাঁচ টাকা বাড়তি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
রিমন নামে আরেক ক্রেতা বলেন, সয়াবিন তেল কিনতে ১০ থেকে ১২টা মুদি দোকান ঘুরেছি। বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলও নেই মুদি দোকানে। বাধ্য হয়ে সুপারশপ থেকে দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনলাম।
আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা রিয়াদ বলেন, প্রতিবছর রোজা এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ভেবেছিলাম অন্তর্বর্তী সরকার সব সিন্ডিকেট ভেঙে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। কিন্তু গত ছয় মাসে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তারা। প্রয়োজনীয় কোনও জিনিসপত্রের দাম এখনও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। চালের দাম বেড়েই চলেছে। এখন আবার তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি থেকে আমাদের আগের মতো তেল সরবরাহ করছে না। চাহিদা অর্ধেক তেলও দিচ্ছে না। এ কারণে বাজারে তেলের সরবরাহ কম। আর এই সুযোগে একটি চক্র নির্দিষ্ট দামের চেয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি করছে। ডিলাররা বলছেন আমদানিকারকরা নাকি আগের মতো ভোজ্যতেল আমদানি করছেন না। বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দামও আগের চেয়ে বেড়েছে। এসব কারণে ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী।